সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে
  অহংকার মোচন কৃষ্ণনগর(আগরতলা) নিবাসী শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার দেববর্মা মহাশয় প্রথম জীবনে বিলোনীয়ায় ত্রিপুরার রাজার নায়েব ছিলেন। কার্যোপলক্ষে তাঁকে বিলোনীয়ায় থাকতে হতো। ঐ সময় তিনি মাঝে মাঝে শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ীতে শ্রীশ্রী রামঠাকুরকে দেখতে যেতেন। একদিন শুনলেন যে শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ী হতে পাল্কী যোগে রেল স্টেশনে যাবেন। তিনি স্থির করলেন যে তিনি পাল্কীর পেছনের দিকে একা বহন করবেন। যেহেতু তিনি যুবক এবং শক্তিমান। আর সামনের দিকে দু'জন বহন করবে। এই সিদ্ধান্তই বাস্তবে কার্যকরী হল। যথাসময়ে পাল্কী চলতে আরম্ভ করল। শ্রীশ্রী রামঠাকুর একাই ঐ পাল্কীতে বসে আছেন। কিন্তু দেখা গেল যে পাল্কীর পেছনের দিক এত ভারী বোধ হল যেন তাঁর কোমর ভেঙ্গে যাবে। তিনি লজ্জায় বলতে সাহস পেলেন না। হঠাত তাঁর মনে হলো তাঁর শারীরিক শক্তির অহংকার ত্যাগ করে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা প্রার্থনা করা প্রয়োজন। পরে তাই করলেন। দেখা গেল যে পেছনের দিক শোলার মতো হালকা বোধ হল। ফলে আরামে রেল স্টেশনে পৌঁছে গেলেন। শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাঁর শরনাগতের অহংকার মোচন করেন। ভগবান প্রাপ্তিতে অহংকার বির...

🌼 বেদবাণী (মূল বাণী)

  🌼 বেদবাণী (মূল বাণী) **“আপনি আপনাকে হতভাগ্য বোধ করেন কেন? গুরুর আশ্রয় পেলে আর কি আপন বলতে কিছু থাকে? গুরুরই সকল হয়। যে পর্য্যন্ত গুরুর আশ্রয় না পায় সেই পর্য্যন্তই ভাগ্য-অভাগ্য বিচার থাকে। চিন্তাশূন্য, ইচ্ছাশূন্য, অনুভূতিশূন্যকেই ভগবদ্ভক্তি বলে। অতএব শূন্যভাবকে পিছনে মগজ—যাহা মাথা হইতে মেরুদণ্ডের মধ্য দিয়া মূলাধার পর্য্যন্ত নামিয়াছে— তাহাতে মন রাখিয়া মন্ত্র উচ্চারণ করিতে করিতে গুরুধ্যান হয়। তদ্দ্বারা প্রাণের তৃপ্তি লাভ করিতে পারে।”** — শ্রীশ্রী রামঠাকুর বেদবাণী : তৃতীয় খণ্ড (১৫০) ❤🤍❤ 🪔 সহজ ব্যাখ্যা (Explanation) ১️⃣ “আপনি আপনাকে হতভাগ্য বোধ করেন কেন?” মানুষ নিজেকে হতভাগ্য মনে করে কারণ— সে নিজেকে কর্তা ভাবছে। যতদিন “আমি করছি, আমি ভুগছি” এই বোধ থাকে, ততদিন ভাগ্য–অভাগ্যের হিসাব থাকবেই। 👉 গুরুর আশ্রয় মানেই— কর্তৃত্বের অবসান। ২️⃣ “গুরুরই সকল হয়” গুরুর শরণ নিলে— ✔ সুখ-দুঃখ ✔ লাভ-ক্ষতি ✔ সম্মান-অপমান সবই গুরুর অধীন হয়ে যায়। তখন আর “আমার” বলে কিছু থাকে না। 🌿 এই অবস্থাতেই ভাগ্য-অভাগ্যের হিসাব লুপ্ত হয়। ৩️⃣ ভগবদ্ভক্তি কী? ঠাকুর এক অনন্য সংজ্ঞা দিলেন—...

স্বপ্নে নামপ্রাপ্তি ও প্রথম ঠাকুর দর্শন | ডঃ প্রভাতচন্দ্র চক্রবর্ত্তীর জীবনে শ্রী শ্রী রামঠাকুর

  স্বপ্নে নামপ্রাপ্তি ও প্রথম ঠাকুর দর্শন | ডঃ প্রভাতচন্দ্র চক্রবর্ত্তীর জীবনে শ্রী শ্রী রামঠাকুর ⚡ হুক (Hook | প্রথম 6–8 সেকেন্ড) 👉 ভুল করে পড়া এক পোস্টকার্ড… 👉 অচেনা এক “রাম”-এর খোঁজ… 👉 আর এক অধ্যাপকের জীবনে আমূল পরিবর্তন! স্বপ্ন না সত্য—নামপ্রাপ্তির এই রহস্য আপনাকেও নাড়া দেবে। 🎙️ ইন্ট্রো (Intro) জয় রাম 🙏 আজকের এই স্মৃতিচারণা শুধু একটি ঘটনা নয়— এ এক অন্তরজাগরণের ইতিহাস । কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বর্গীয় ডঃ প্রভাতচন্দ্র চক্রবর্ত্তীর জীবনে শ্রী শ্রী রামঠাকুরের প্রথম দর্শন, স্বপ্নে নামপ্রাপ্তি ও করুণাময় লীলার কাহিনি। 📖 মেইন স্ক্রিপ্ট (Main Script | সংক্ষেপে বর্ণনাভিত্তিক) ১৯১৮ সাল। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের নবনিযুক্ত অধ্যাপক প্রভাতচন্দ্র চক্রবর্ত্তীর হাতে এল ভুলবশত তাঁর বাড়ির চিঠির বাক্সে পড়া এক পোস্টকার্ড। চিঠিতে লেখা— “আমি নিশ্চিত জানি, রাম সাক্ষাৎ ভগবান।” লেখক ছিলেন আশীতিপর যোগজীবন মুখোপাধ্যায়— একজন খ্যাতনামা পণ্ডিত। এই কথাগুলি প্রভাতচন্দ্রের মনে আলোড়ন তুলল। তিনি ভাবলেন— এমন পাণ্ডিত্যের অধিকারী মানুষ যখন নিঃসংশয়ে বলেন “রাম...
🌼 বেদবাণী (মূল উদ্ধৃতি) “সত্য = স্থায়ী (অক্ষর), অসত্য = অস্থায়ী (ক্ষর)। উপাধিতে আকৃষ্ট হইয়া লোক সমস্ত প্রকৃতিগত মন হইতে এই দ্বন্দ্ববিভাগের দাস হইয়া জন্ম-মৃত্যু-জরার দ্বারা বন্দী হইয়া পড়ে। যিনি গুণাতীত পরম ব্রহ্ম—যাঁহার জন্ম, মৃত্যু, জরা নাই—তাঁহাকে ভুলিয়া যায়। অতএব সর্বদা সত্যের ব্রত করিবেন। তিনি সর্ব্বকলুষময় ঋণদায় হইতে উদ্ধার করিয়া নিবেন। যাহা হউক, স্ব স্ব অধিকারের দাবী-দাওয়া না করিয়া সর্ব্বতোভাবে কর্ত্তব্য পালনে যত্নশীল হউন।” — শ্রী শ্রী রামঠাকুর বেদবাণী, ২য় খণ্ড (২৬) 🪔 সহজ ব্যাখ্যা (Explanation) 🔹 সত্য ও অসত্য ঠাকুর বলছেন— সত্য চিরস্থায়ী, অক্ষয়। অসত্য ক্ষণস্থায়ী, নশ্বর। 🔹 উপাধির মোহ নাম, পদ, অর্থ, মান-অপমান— এই সব উপাধিতে আসক্ত হয়েই মানুষ মন দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্বই জন্ম দেয় জন্ম–মৃত্যু–জরার বন্ধন। 🔹 পরম সত্যকে বিস্মরণ এই মোহের কারণেই মানুষ ভুলে যায় সেই গুণাতীত পরম ব্রহ্মকে— যাঁর কোনো জন্ম নেই, মৃত্যু নেই, জরা নেই। 🔹 উদ্ধারের পথ ঠাকুর নির্দেশ দিচ্ছেন— 👉 সর্বদা সত্যের ব্রত গ্রহণ করো 👉 অধিকার দাবি নয়, কর্তব্য পালন করো 👉 ফল বা প্র...

ট্রেনের তৃতীয় শ্রেণীতে ঠাকুরের দর্শন | স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায়ের অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা

  ট্রেনের তৃতীয় শ্রেণীতে ঠাকুরের দর্শন | স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায়ের অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা ⚡ হুক (Hook – প্রথম 6–8 সেকেন্ড) 👉 প্রথম শ্রেণীর স্বর্গ… 👉 তৃতীয় শ্রেণীর নরক… 👉 আর সেই নরকের মধ্যেই শ্রী শ্রী রামঠাকুর! কেন সুখ ত্যাগ করে দুঃখকে বরণ করেছিলেন ঠাকুর? 🎙️ ইন্ট্রো (Intro) জয় রাম 🙏 আজকের এই লীলা আমাদের শেখায়— সুখ নয়, ত্যাগই ঈশ্বরের নিকটতম পথ। স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায় চক্রবর্তীর জীবনে ঘটে যাওয়া এই ট্রেনযাত্রার লীলা আজও অন্তর কাঁপিয়ে দেয়। 📖 মেইন স্ক্রিপ্ট (Main Script – গল্পভিত্তিক) প্রায় সত্তর বছর আগেকার কথা। ঢাকা-শক্তি-ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায় চক্রবর্তী এলাহাবাদ যাত্রায় ট্রেনে উঠলেন। প্রথম শ্রেণীর কামরার সামনে ভক্তদের ভিড় দেখে তিনি বুঝলেন—কোনো এক মহাপুরুষ সেখানে আছেন। পরবর্তীতে জানতে পারলেন— তিনি আর কেউ নন, এক সন্ন্যাসী প্রবর। সময় পেয়ে মথুরামোহন সেই কামরায় গেলেন। ভক্তি, ভজন, ফুল-ফল, আনন্দে ভরে থাকা সেই কামরা তাঁর কাছে যেন স্বর্গের দরজা। কিন্তু কামরা ছাড়ার সময় ভুল করে তিনি উঠে পড়লেন এক তৃতীয় শ্রেণীর কামরায়— ভিড়, ...

বাসনাই বন্ধনের কারণ” | শ্রী শ্রী রামঠাকুরের করুণাময় লীলা অমৃত (পর্ব–৪৮)

  🎥 ভিডিও শিরোনাম (Title) “বাসনাই বন্ধনের কারণ” | শ্রী শ্রী রামঠাকুরের করুণাময় লীলা অমৃত (পর্ব–৪৮) ⚡ হুক (Hook – প্রথম 5–7 সেকেন্ড) 👉 একজন আজীবন নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব… 👉 শেষ বয়সে একটিমাত্র ডিম! 👉 শ্রী শ্রী রামঠাকুর কেন ভাঙালেন তাঁর আজীবনের ব্রত? এই লীলার গভীরে লুকিয়ে আছে মুক্তির চাবিকাঠি। 🎙️ ইন্ট্রো (Intro) জয় রাম 🙏 আজকের এই লীলা অমৃত আমাদের শেখায়— সংসার নয়, বাসনাই বন্ধন । শ্রী শ্রী রামঠাকুরের এক অপূর্ব করুণাময় লীলা শুনে আপনিও নিজের অন্তরকে চিনে নিতে পারবেন। 📖 মেইন স্ক্রিপ্ট (Main Script – সংক্ষেপে বর্ণনাভিত্তিক) স্বর্গীয় বীরেন রায়ের মনে এক প্রবল বাসনা জাগল— ঠাকুর মহাশয়কে একবার নিজের দেশের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার। পিতামাতার বহুদিনের আকাঙ্ক্ষাও ছিল ঠাকুর দর্শনের। ঠাকুর মহাশয় করুণায় সেই বাসনা পূর্ণ করলেন। পথ চলতে চলতেই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল— ঠাকুর মহাশয় এমন এক পথে হাঁটলেন, যে পথে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা পৌঁছলেন এক পরম নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব আচার্যের কুটীরে— যিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত। ঠাকুর মহাশয় তাঁর শিয়রে বসতেই রোগে জর্জর মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। হঠা...

গর্ব্বহারী ভগবান: জীবের ইচ্ছা নয়—ফলে কৃষ্ণের ইচ্ছাই! | Sri Sri Ramthakur Potranso 3rd Khondo”

  গর্ব্বহারী ভগবান: জীবের ইচ্ছা নয়—ফলে কৃষ্ণের ইচ্ছাই! | Sri Sri Ramthakur Potranso 3rd Khondo” 2️⃣ “গর্ব, অভিমান ভাঙ্গে যেভাবে | রামঠাকুরের বানী ও গীতার মিল | Potranso 3rd Khondo” 3️⃣ “জীবের কোটি বাঞ্চা—কৃষ্ণের এক ইচ্ছা! | Spiritual Lesson | Sri Sri Ramthakur” 🎬 VIDEO INTRO (10–12 sec) 🌼 “পবিত্র বাণীর আলোকে পথচলা”—শ্রীশ্রী রামঠাকুরের তৃতীয় খণ্ডের এক অনন্য উপদেশ। আজ আমরা জানব কেন ভগবান গর্ব ভাঙেন এবং কেন জীবের কোটি বাঞ্চার ওপরে কৃষ্ণের একটিমাত্র ইচ্ছাই কার্যকর হয়। 🌼 ১৩৬) গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব্ব অভিমান থাকতে দেন না।  ”জীবের ইচ্ছা কোটি বাঞ্চা করে।  কৃষ্ণের যে ইচ্ছা সেই ফল ফলে। । ” ইহা মহাজনের বাক্য, অভ্রান্ত। আজকের বাণী— “গর্ব্বহারী ভগবান কারো গর্ব অভিমান থাকতে দেন না। জীবের ইচ্ছা কোটি বাঞ্চা করে। কৃষ্ণের যে ইচ্ছা সেই ফল ফলে।” এই বাক্যটি মহাজনের বাক্য—অভ্রান্ত, চিরসত্য। মানুষ যতই শক্তি, জ্ঞান, প্রতিভা, ধন বা সম্মান অর্জন করুক— যখন সেই অর্জনে গর্ব জন্মায়, ভগবান সেই গর্ব এক মুহূর্তেই ভেঙে দেন। কারণ গর্ব মানুষকে নিজের শক্তির পরিচয় ভুলিয়ে দেয়— এবং ঈশ্বরে...