সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
  অহংকার মোচন কৃষ্ণনগর(আগরতলা) নিবাসী শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার দেববর্মা মহাশয় প্রথম জীবনে বিলোনীয়ায় ত্রিপুরার রাজার নায়েব ছিলেন। কার্যোপলক্ষে তাঁকে বিলোনীয়ায় থাকতে হতো। ঐ সময় তিনি মাঝে মাঝে শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ীতে শ্রীশ্রী রামঠাকুরকে দেখতে যেতেন। একদিন শুনলেন যে শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ী হতে পাল্কী যোগে রেল স্টেশনে যাবেন। তিনি স্থির করলেন যে তিনি পাল্কীর পেছনের দিকে একা বহন করবেন। যেহেতু তিনি যুবক এবং শক্তিমান। আর সামনের দিকে দু'জন বহন করবে। এই সিদ্ধান্তই বাস্তবে কার্যকরী হল। যথাসময়ে পাল্কী চলতে আরম্ভ করল। শ্রীশ্রী রামঠাকুর একাই ঐ পাল্কীতে বসে আছেন। কিন্তু দেখা গেল যে পাল্কীর পেছনের দিক এত ভারী বোধ হল যেন তাঁর কোমর ভেঙ্গে যাবে। তিনি লজ্জায় বলতে সাহস পেলেন না। হঠাত তাঁর মনে হলো তাঁর শারীরিক শক্তির অহংকার ত্যাগ করে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা প্রার্থনা করা প্রয়োজন। পরে তাই করলেন। দেখা গেল যে পেছনের দিক শোলার মতো হালকা বোধ হল। ফলে আরামে রেল স্টেশনে পৌঁছে গেলেন। শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাঁর শরনাগতের অহংকার মোচন করেন। ভগবান প্রাপ্তিতে অহংকার বির...

 অহংকার মোচন

🙏🌼
কৃষ্ণনগর(আগরতলা) নিবাসী শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার দেববর্মা মহাশয় প্রথম জীবনে বিলোনীয়ায় ত্রিপুরার রাজার নায়েব ছিলেন। কার্যোপলক্ষে তাঁকে বিলোনীয়ায় থাকতে হতো। ঐ সময় তিনি মাঝে মাঝে শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ীতে শ্রীশ্রী রামঠাকুরকে দেখতে যেতেন। একদিন শুনলেন যে শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ী হতে পাল্কী যোগে রেল স্টেশনে যাবেন। তিনি স্থির করলেন যে তিনি পাল্কীর পেছনের দিকে একা বহন করবেন। যেহেতু তিনি যুবক এবং শক্তিমান। আর সামনের দিকে দু'জন বহন করবে। এই সিদ্ধান্তই বাস্তবে কার্যকরী হল। যথাসময়ে পাল্কী চলতে আরম্ভ করল। শ্রীশ্রী রামঠাকুর একাই ঐ পাল্কীতে বসে আছেন। কিন্তু দেখা গেল যে পাল্কীর পেছনের দিক এত ভারী বোধ হল যেন তাঁর কোমর ভেঙ্গে যাবে। তিনি লজ্জায় বলতে সাহস পেলেন না। হঠাত তাঁর মনে হলো তাঁর শারীরিক শক্তির অহংকার ত্যাগ করে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা প্রার্থনা করা প্রয়োজন। পরে তাই করলেন। দেখা গেল যে পেছনের দিক শোলার মতো হালকা বোধ হল। ফলে আরামে রেল স্টেশনে পৌঁছে গেলেন।
শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাঁর শরনাগতের অহংকার মোচন করেন। ভগবান প্রাপ্তিতে অহংকার বিরাট বাধা।
📑শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কার্যকলাপ।
📄প্রথম খণ্ড
📄পৃষ্ঠা: ২০

অহংকার মোচন – শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কৃপা | এক বাস্তব ঘটনা


🎣 ভিডিও হুক (Hook)

মানুষের শক্তি বড়, না ভগবানের কৃপা বড়?
এক যুবক নিজের শক্তির উপর অহংকার করেছিল। কিন্তু শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাকে এমন শিক্ষা দিলেন, যা তার জীবনই বদলে দিল।


🎙️ Main Script (মূল গল্প)

আজ আমরা শুনবো শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এক অলৌকিক ঘটনা—
অহংকার মোচন।

কৃষ্ণনগর, আগরতলার বাসিন্দা
শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার দেববর্মা মহাশয়
প্রথম জীবনে বিলোনীয়ায় ত্রিপুরার রাজার নায়েব ছিলেন।

কাজের কারণে তাকে প্রায়ই বিলোনীয়ায় থাকতে হতো।
সেই সময় তিনি মাঝে মাঝে
শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়িতে
শ্রীশ্রী রামঠাকুরকে দর্শন করতে যেতেন।

একদিন তিনি শুনলেন—
শ্রীশ্রী রামঠাকুর সেখান থেকে পাল্কীতে করে রেলস্টেশনে যাবেন।

তিনি মনে মনে ভাবলেন—
তিনি যুবক এবং শক্তিশালী।
তাই পাল্কীর পেছনের দিকটা তিনি একাই বহন করবেন।

আর সামনে দুজন মানুষ থাকবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাল্কী যাত্রা শুরু হল।
শ্রীশ্রী রামঠাকুর একাই পাল্কীর ভিতরে বসে আছেন।

কিন্তু কিছুদূর যেতেই
সুরেন্দ্রবাবু অনুভব করলেন—

পাল্কীর পেছনের দিকটি এত ভারী হয়ে গেছে
যেন তাঁর কোমর ভেঙে যাবে।

তিনি লজ্জার কারণে কিছু বলতে পারলেন না।

হঠাৎ তাঁর মনে হল—
এটা তাঁর নিজের শক্তির অহংকারের ফল।

তখন তিনি অন্তরে অন্তরে
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করলেন—

“ঠাকুর, আমার অহংকার দূর করুন।
আপনার কৃপা দিন।”

অবাক করার বিষয়—
এই প্রার্থনার পরই
পাল্কীর পেছনের দিক শোলার মতো হালকা হয়ে গেল।

এরপর তিনি সহজেই পাল্কী বহন করে
রেলস্টেশনে পৌঁছে গেলেন।


📖 Line by Line Explanation (ব্যাখ্যা)

১️⃣ মানুষের শক্তির অহংকার

সুরেন্দ্রবাবু যুবক ও শক্তিশালী ছিলেন।
এই শক্তির উপরই তাঁর এক ধরনের অহংকার জন্মেছিল।


২️⃣ ঠাকুরের লীলা

শ্রীশ্রী রামঠাকুর সেই অহংকার দূর করার জন্য
তাকে এক বাস্তব শিক্ষা দিলেন।


৩️⃣ কৃপা প্রার্থনার শক্তি

যখন তিনি আন্তরিকভাবে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করলেন,
তখনই পরিস্থিতি বদলে গেল।


৪️⃣ অহংকার ভাঙলে কৃপা আসে

এই ঘটনাটি দেখায়—
অহংকার থাকলে ঈশ্বরের কৃপা পাওয়া কঠিন।


৫️⃣ শরণাগতির শিক্ষা

যখন মানুষ নিজের অহংকার ত্যাগ করে
ভগবানের শরণ গ্রহণ করে,
তখন জীবন সহজ হয়ে যায়।


🌿 মূল শিক্ষা

শ্রীশ্রী রামঠাকুর দেখিয়েছেন—
অহংকার ভক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

যে ব্যক্তি বিনয়ী হয়ে ভগবানের শরণ নেয়,
ভগবান তার জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে দেন।


🎬 End Script

এই ছিল শ্রীশ্রী রামঠাকুরের এক অপূর্ব কৃপালীলা—
অহংকার মোচন।

আমাদের জীবনেও যদি অহংকার আসে,
তবে মনে রাখতে হবে—

ভক্তি, বিনয় ও শরণাগতির মধ্যেই ভগবান প্রাপ্তির পথ।

📚 উৎস:
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অলৌকিক কার্যকলাপ
প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা – ২০

📖 শিক্ষামূলক আলোচনা:
“বাণীর আলোকে পথ চলা (Banir Aloke Poth Chala)” –
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের পত্রাংশের ব্যাখ্যা

✍️ ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনা:
Subrata Majumder

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড

  বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড, (১)নং পত্রাংশ। শ্রীশ্রী রামঠাকুর।  (১) স্বত:সিদ্ধ কাম পূর্ণ করিয়া সত্যনাথের অধীন হইয়া থাকিতে অভ্যাস করুন।  ন কর্ত্তৃত্বং ন কর্ম্মাণি লোকস্য সৃজতি প্রভু:।  ন কর্ম্ম ফলসংযোগ স্বভাবস্তু প্রবর্ত্ততে। ।  শ্রুতি বাক্য। স্ব স্ব ভাগ্যই ফল জন্মাইয়া থাকেন তাহা ছাড়া অন্য কাহারো ভাগ্য ফল দেবার ক্ষমতা নাই। যাহা হউক, আপনি সত্যের অংশে সকল ভার রাখি[য়া] সঙ্করের ঋণ সকল পরিশোধ করিতে যত্নবানের অভ্যাস করিতে থাকুন, সত্যই সকল ব্যবস্থা করিবেন।  ভাগ্যগতিকেই লোকে দেহ সমাজ স্বজন বন্ধুবান্ধব স্ত্রী পুত্রাদি এবং স্থানাদি লাভ করিয়া থাকে। যখন যাহা লোকের সংঘটন ঘটিয়া থাকে তাহার কর্ত্তা ভাগ্যই জানিবেন। স ভাগ্য ছাড়িয়া পরের ভাগ্যের অধীনে গেলে কালচক্রের অন্তের [?] অধীন হইয়া পড়িতে হয় জানিবেন।  বাড়ীঘর যেখানে হইবার হইবে-তাহা ভাগ্য অর্থাৎ ভগবানই বিধান করেন তাহার চিন্তা বৃথা। (ভাগ্যং ফলতি সর্ব্বত্র)সত্যনারায়ণকে ভুলিবেন না। watch Now বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড, (২) নং পত্রাংশ। শ্রীশ্রী রামঠাকুর।   উৎ (আলোকে) সব (থাকা) দুই সখীগণে উৎসব...

"সর্ব্বতোভাবে সকল অবস্থায়ই সহিষ্ণুতার সঙ্গ করিতে চেষ্টা করিবেন।"

  📿 🌼 বেদবাণী (৯৭) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর 🌼 "সর্ব্বতোভাবে সকল অবস্থায়ই সহিষ্ণুতার সঙ্গ করিতে চেষ্টা করিবেন।" সংসারের আবর্ত্তন নৃত্য সচরাচরে ভ্রমণ করিয়া থাকে। ইহাদের তরঙ্গ উল্লাসের বেগ যত সহ্য করিতে পারে, ততই ভগবৎ-শক্তিতে শান্তির শান্তিরথ খুলিয়া পড়ে। 🌊 সহিষ্ণুতা - এই একটি গুণই জীবনের সমস্ত ঝড় সামাল দিতে শেখায়। 🕊️ শান্তির পথ শুরু হয় সহ্য ও সংযম থেকে। 🙏 জয়গুরু | জয় ঠাকুর | জয় ভগবতী শক্তি 📌 Description (পোস্টের নিচে ব্যবহারযোগ্য) যে হৃদয়ে সহিষ্ণুতা, সেখানে ভগবানের শান্তি স্বয়ং এসে প্রবেশ করেন। ঠাকুর বলেছিলেন – সংসারের ঝড়, আনন্দ-বেদনার ঢেউ, সবকিছুই সহ্য করাই ঈশ্বর-প্রাপ্তির প্রথম ধাপ। আজকের দিনটিকে করুন ঠাকুরের ভাবনায় শুরু… 🔖 Hashtags
🌼 বেদবাণী (মূল উদ্ধৃতি) “সত্য = স্থায়ী (অক্ষর), অসত্য = অস্থায়ী (ক্ষর)। উপাধিতে আকৃষ্ট হইয়া লোক সমস্ত প্রকৃতিগত মন হইতে এই দ্বন্দ্ববিভাগের দাস হইয়া জন্ম-মৃত্যু-জরার দ্বারা বন্দী হইয়া পড়ে। যিনি গুণাতীত পরম ব্রহ্ম—যাঁহার জন্ম, মৃত্যু, জরা নাই—তাঁহাকে ভুলিয়া যায়। অতএব সর্বদা সত্যের ব্রত করিবেন। তিনি সর্ব্বকলুষময় ঋণদায় হইতে উদ্ধার করিয়া নিবেন। যাহা হউক, স্ব স্ব অধিকারের দাবী-দাওয়া না করিয়া সর্ব্বতোভাবে কর্ত্তব্য পালনে যত্নশীল হউন।” — শ্রী শ্রী রামঠাকুর বেদবাণী, ২য় খণ্ড (২৬) 🪔 সহজ ব্যাখ্যা (Explanation) 🔹 সত্য ও অসত্য ঠাকুর বলছেন— সত্য চিরস্থায়ী, অক্ষয়। অসত্য ক্ষণস্থায়ী, নশ্বর। 🔹 উপাধির মোহ নাম, পদ, অর্থ, মান-অপমান— এই সব উপাধিতে আসক্ত হয়েই মানুষ মন দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্বই জন্ম দেয় জন্ম–মৃত্যু–জরার বন্ধন। 🔹 পরম সত্যকে বিস্মরণ এই মোহের কারণেই মানুষ ভুলে যায় সেই গুণাতীত পরম ব্রহ্মকে— যাঁর কোনো জন্ম নেই, মৃত্যু নেই, জরা নেই। 🔹 উদ্ধারের পথ ঠাকুর নির্দেশ দিচ্ছেন— 👉 সর্বদা সত্যের ব্রত গ্রহণ করো 👉 অধিকার দাবি নয়, কর্তব্য পালন করো 👉 ফল বা প্র...