সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
  অহংকার মোচন কৃষ্ণনগর(আগরতলা) নিবাসী শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার দেববর্মা মহাশয় প্রথম জীবনে বিলোনীয়ায় ত্রিপুরার রাজার নায়েব ছিলেন। কার্যোপলক্ষে তাঁকে বিলোনীয়ায় থাকতে হতো। ঐ সময় তিনি মাঝে মাঝে শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ীতে শ্রীশ্রী রামঠাকুরকে দেখতে যেতেন। একদিন শুনলেন যে শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ী হতে পাল্কী যোগে রেল স্টেশনে যাবেন। তিনি স্থির করলেন যে তিনি পাল্কীর পেছনের দিকে একা বহন করবেন। যেহেতু তিনি যুবক এবং শক্তিমান। আর সামনের দিকে দু'জন বহন করবে। এই সিদ্ধান্তই বাস্তবে কার্যকরী হল। যথাসময়ে পাল্কী চলতে আরম্ভ করল। শ্রীশ্রী রামঠাকুর একাই ঐ পাল্কীতে বসে আছেন। কিন্তু দেখা গেল যে পাল্কীর পেছনের দিক এত ভারী বোধ হল যেন তাঁর কোমর ভেঙ্গে যাবে। তিনি লজ্জায় বলতে সাহস পেলেন না। হঠাত তাঁর মনে হলো তাঁর শারীরিক শক্তির অহংকার ত্যাগ করে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা প্রার্থনা করা প্রয়োজন। পরে তাই করলেন। দেখা গেল যে পেছনের দিক শোলার মতো হালকা বোধ হল। ফলে আরামে রেল স্টেশনে পৌঁছে গেলেন। শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাঁর শরনাগতের অহংকার মোচন করেন। ভগবান প্রাপ্তিতে অহংকার বির...

ট্রেনের তৃতীয় শ্রেণীতে ঠাকুরের দর্শন | স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায়ের অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা

 ট্রেনের তৃতীয় শ্রেণীতে ঠাকুরের দর্শন | স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায়ের অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা


⚡ হুক (Hook – প্রথম 6–8 সেকেন্ড)

👉 প্রথম শ্রেণীর স্বর্গ…
👉 তৃতীয় শ্রেণীর নরক…
👉 আর সেই নরকের মধ্যেই শ্রী শ্রী রামঠাকুর!
কেন সুখ ত্যাগ করে দুঃখকে বরণ করেছিলেন ঠাকুর?


🎙️ ইন্ট্রো (Intro)

জয় রাম 🙏
আজকের এই লীলা আমাদের শেখায়—
সুখ নয়, ত্যাগই ঈশ্বরের নিকটতম পথ।
স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায় চক্রবর্তীর জীবনে ঘটে যাওয়া
এই ট্রেনযাত্রার লীলা আজও অন্তর কাঁপিয়ে দেয়।


📖 মেইন স্ক্রিপ্ট (Main Script – গল্পভিত্তিক)

প্রায় সত্তর বছর আগেকার কথা।
ঢাকা-শক্তি-ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা
স্বর্গীয় মথুরামোহন মুখোপাধ্যায় চক্রবর্তী
এলাহাবাদ যাত্রায় ট্রেনে উঠলেন।

প্রথম শ্রেণীর কামরার সামনে ভক্তদের ভিড় দেখে
তিনি বুঝলেন—কোনো এক মহাপুরুষ সেখানে আছেন।
পরবর্তীতে জানতে পারলেন—
তিনি আর কেউ নন, এক সন্ন্যাসী প্রবর।

সময় পেয়ে মথুরামোহন সেই কামরায় গেলেন।
ভক্তি, ভজন, ফুল-ফল, আনন্দে ভরে থাকা সেই কামরা
তাঁর কাছে যেন স্বর্গের দরজা।

কিন্তু কামরা ছাড়ার সময়
ভুল করে তিনি উঠে পড়লেন এক তৃতীয় শ্রেণীর কামরায়—
ভিড়, দুর্গন্ধ, ধোঁয়া, অসহনীয় কষ্ট।

ঠিক সেই নরকের মধ্যেই
তিনি দেখতে পেলেন—
শ্রী শ্রী রামঠাকুর।

দু’পাশে দু’জন স্থূলকায় মানুষের মাঝে
ঠাকুর বসে আছেন কষ্টের আসনে।

মথুরামোহনের হৃদয় ভেঙে গেল।
তিনি অনুরোধ করলেন—
👉 দ্বিতীয় বা প্রথম শ্রেণীতে তুলে নিতে
👉 নিজের আসন ছেড়ে দিতে
👉 এমনকি টাকা দিয়ে গাড়ির ব্যবস্থাও করতে

কিন্তু ঠাকুর সবই প্রত্যাখ্যান করলেন।


🧠 ব্যাখ্যা ও শিক্ষা (Explanation / Education)

🌿 ঠাকুর বললেন—

“হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন থার্ড ক্লাসে কষ্ট করে যায়।
আমি তাদের চেয়ে বড় কে?”

🌿 তিনি জানালেন—
সাধারণ মানুষের কষ্টে নিজেকে একাকার করাই তাঁর পথ।

🌿 মথুরামোহন বুঝলেন—
👉 দান করার সামর্থ্য থাকলেই হয় না
👉 সৎ ব্যয় করতে পারাও ঈশ্বরের কৃপা

🌿 ঠাকুরের জীবনদর্শন—
❌ সুখ সংগ্রহ নয়
✔ দুঃখকে আলিঙ্গন
✔ আরাম ত্যাগ
✔ সহভোগ

এই কারণেই
প্রথম শ্রেণীর স্বর্গ ছেড়ে
তিনি তৃতীয় শ্রেণীর কষ্টকেই বেছে নেন।


🌼 জীবনের বার্তা (Life Message)

🔹 আমরা সুখের পেছনে ছুটি
🔹 ঠাকুর দুঃখের ভেতর দিয়ে মানুষকে বরণ করেন
🔹 আমরা আরাম চাই
🔹 ঠাকুর আর্ত মানুষের পাশে থাকতে চান

👉 এটাই সত্যিকারের করুণা।


🔔 উপসংহার (Closing)

এই লীলা আমাদের প্রশ্ন করে—
আমরা কি শুধু ঈশ্বরের কাছ থেকে নিতে চাই,
নাকি মানুষের কষ্ট ভাগ করে নিতেও প্রস্তুত?


📢 সাবস্ক্রিপশন রিকোয়েস্ট (Subscription Request)

যদি এই লীলা আপনার অন্তরে আলো জ্বেলে থাকে—

🙏 লাইক করুন
🙏 শেয়ার করুন
🙏 সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেল
🙏 বেল আইকন চাপুন

শ্রী শ্রী রামঠাকুরের লীলা অমৃত নিয়মিত পেতে।

জয় রাম 🌼
জয় গোবিন্দ 🌼
প্রচারে কৈবল্যধাম 🌺

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড

  বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড, (১)নং পত্রাংশ। শ্রীশ্রী রামঠাকুর।  (১) স্বত:সিদ্ধ কাম পূর্ণ করিয়া সত্যনাথের অধীন হইয়া থাকিতে অভ্যাস করুন।  ন কর্ত্তৃত্বং ন কর্ম্মাণি লোকস্য সৃজতি প্রভু:।  ন কর্ম্ম ফলসংযোগ স্বভাবস্তু প্রবর্ত্ততে। ।  শ্রুতি বাক্য। স্ব স্ব ভাগ্যই ফল জন্মাইয়া থাকেন তাহা ছাড়া অন্য কাহারো ভাগ্য ফল দেবার ক্ষমতা নাই। যাহা হউক, আপনি সত্যের অংশে সকল ভার রাখি[য়া] সঙ্করের ঋণ সকল পরিশোধ করিতে যত্নবানের অভ্যাস করিতে থাকুন, সত্যই সকল ব্যবস্থা করিবেন।  ভাগ্যগতিকেই লোকে দেহ সমাজ স্বজন বন্ধুবান্ধব স্ত্রী পুত্রাদি এবং স্থানাদি লাভ করিয়া থাকে। যখন যাহা লোকের সংঘটন ঘটিয়া থাকে তাহার কর্ত্তা ভাগ্যই জানিবেন। স ভাগ্য ছাড়িয়া পরের ভাগ্যের অধীনে গেলে কালচক্রের অন্তের [?] অধীন হইয়া পড়িতে হয় জানিবেন।  বাড়ীঘর যেখানে হইবার হইবে-তাহা ভাগ্য অর্থাৎ ভগবানই বিধান করেন তাহার চিন্তা বৃথা। (ভাগ্যং ফলতি সর্ব্বত্র)সত্যনারায়ণকে ভুলিবেন না। watch Now বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড, (২) নং পত্রাংশ। শ্রীশ্রী রামঠাকুর।   উৎ (আলোকে) সব (থাকা) দুই সখীগণে উৎসব...

"সর্ব্বতোভাবে সকল অবস্থায়ই সহিষ্ণুতার সঙ্গ করিতে চেষ্টা করিবেন।"

  📿 🌼 বেদবাণী (৯৭) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর 🌼 "সর্ব্বতোভাবে সকল অবস্থায়ই সহিষ্ণুতার সঙ্গ করিতে চেষ্টা করিবেন।" সংসারের আবর্ত্তন নৃত্য সচরাচরে ভ্রমণ করিয়া থাকে। ইহাদের তরঙ্গ উল্লাসের বেগ যত সহ্য করিতে পারে, ততই ভগবৎ-শক্তিতে শান্তির শান্তিরথ খুলিয়া পড়ে। 🌊 সহিষ্ণুতা - এই একটি গুণই জীবনের সমস্ত ঝড় সামাল দিতে শেখায়। 🕊️ শান্তির পথ শুরু হয় সহ্য ও সংযম থেকে। 🙏 জয়গুরু | জয় ঠাকুর | জয় ভগবতী শক্তি 📌 Description (পোস্টের নিচে ব্যবহারযোগ্য) যে হৃদয়ে সহিষ্ণুতা, সেখানে ভগবানের শান্তি স্বয়ং এসে প্রবেশ করেন। ঠাকুর বলেছিলেন – সংসারের ঝড়, আনন্দ-বেদনার ঢেউ, সবকিছুই সহ্য করাই ঈশ্বর-প্রাপ্তির প্রথম ধাপ। আজকের দিনটিকে করুন ঠাকুরের ভাবনায় শুরু… 🔖 Hashtags
🌼 বেদবাণী (মূল উদ্ধৃতি) “সত্য = স্থায়ী (অক্ষর), অসত্য = অস্থায়ী (ক্ষর)। উপাধিতে আকৃষ্ট হইয়া লোক সমস্ত প্রকৃতিগত মন হইতে এই দ্বন্দ্ববিভাগের দাস হইয়া জন্ম-মৃত্যু-জরার দ্বারা বন্দী হইয়া পড়ে। যিনি গুণাতীত পরম ব্রহ্ম—যাঁহার জন্ম, মৃত্যু, জরা নাই—তাঁহাকে ভুলিয়া যায়। অতএব সর্বদা সত্যের ব্রত করিবেন। তিনি সর্ব্বকলুষময় ঋণদায় হইতে উদ্ধার করিয়া নিবেন। যাহা হউক, স্ব স্ব অধিকারের দাবী-দাওয়া না করিয়া সর্ব্বতোভাবে কর্ত্তব্য পালনে যত্নশীল হউন।” — শ্রী শ্রী রামঠাকুর বেদবাণী, ২য় খণ্ড (২৬) 🪔 সহজ ব্যাখ্যা (Explanation) 🔹 সত্য ও অসত্য ঠাকুর বলছেন— সত্য চিরস্থায়ী, অক্ষয়। অসত্য ক্ষণস্থায়ী, নশ্বর। 🔹 উপাধির মোহ নাম, পদ, অর্থ, মান-অপমান— এই সব উপাধিতে আসক্ত হয়েই মানুষ মন দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্বই জন্ম দেয় জন্ম–মৃত্যু–জরার বন্ধন। 🔹 পরম সত্যকে বিস্মরণ এই মোহের কারণেই মানুষ ভুলে যায় সেই গুণাতীত পরম ব্রহ্মকে— যাঁর কোনো জন্ম নেই, মৃত্যু নেই, জরা নেই। 🔹 উদ্ধারের পথ ঠাকুর নির্দেশ দিচ্ছেন— 👉 সর্বদা সত্যের ব্রত গ্রহণ করো 👉 অধিকার দাবি নয়, কর্তব্য পালন করো 👉 ফল বা প্র...