সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
  অহংকার মোচন কৃষ্ণনগর(আগরতলা) নিবাসী শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্র কুমার দেববর্মা মহাশয় প্রথম জীবনে বিলোনীয়ায় ত্রিপুরার রাজার নায়েব ছিলেন। কার্যোপলক্ষে তাঁকে বিলোনীয়ায় থাকতে হতো। ঐ সময় তিনি মাঝে মাঝে শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ীতে শ্রীশ্রী রামঠাকুরকে দেখতে যেতেন। একদিন শুনলেন যে শ্রীশ্রী রামঠাকুর শ্রীযুক্ত ফনীন্দ্র মালাকার মহাশয়ের বাড়ী হতে পাল্কী যোগে রেল স্টেশনে যাবেন। তিনি স্থির করলেন যে তিনি পাল্কীর পেছনের দিকে একা বহন করবেন। যেহেতু তিনি যুবক এবং শক্তিমান। আর সামনের দিকে দু'জন বহন করবে। এই সিদ্ধান্তই বাস্তবে কার্যকরী হল। যথাসময়ে পাল্কী চলতে আরম্ভ করল। শ্রীশ্রী রামঠাকুর একাই ঐ পাল্কীতে বসে আছেন। কিন্তু দেখা গেল যে পাল্কীর পেছনের দিক এত ভারী বোধ হল যেন তাঁর কোমর ভেঙ্গে যাবে। তিনি লজ্জায় বলতে সাহস পেলেন না। হঠাত তাঁর মনে হলো তাঁর শারীরিক শক্তির অহংকার ত্যাগ করে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপা প্রার্থনা করা প্রয়োজন। পরে তাই করলেন। দেখা গেল যে পেছনের দিক শোলার মতো হালকা বোধ হল। ফলে আরামে রেল স্টেশনে পৌঁছে গেলেন। শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাঁর শরনাগতের অহংকার মোচন করেন। ভগবান প্রাপ্তিতে অহংকার বির...

 

প্রারব্ধই শেষ সত্য | শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী (৯৮) | ভাগ্য ও ঈশ্বরের লীলা"


🎤 📢 Video Intro (ভিডিও সূচনা অংশ)

🎶 [Background: কোমল ভক্তিমূলক সংগীত বাজতে থাকে]
🕉️
"জীবনের দুঃখ, প্রারব্ধের বোঝা — সবই কি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে? শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলছেন, কর্তা হবার চেষ্টা নয় — ভগবানের ইচ্ছায় নিজেকে সঁপে দাও। চলুন শুনি বেদবাণী – নং ৯৮।"


(৯৮) এই সংসার অদৃষ্টচক্রে ভ্রমণ করাইয়া এই দেহেতে মন বুদ্ধির দ্বারা ভাগ্যবশত: প্রকৃতির গুণের দ্বারা চালিত হইয়া থাকে। তজ্জন্য দুঃখ  না করিয়া কেবল প্রারব্ধের কর্ম্ম রীতিমত করিয়া যাইতে হয়। কর্ত্তা হইয়া প্রারব্ধের উপর বাধা দিতে গেলে প্রারব্ধ দণ্ড ক্ষয় হয় না বলিয়াই পূর্ব্বপুরুষগণ সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি চার যুগেই ভগবানের অবতার হইয়া ও প্রারব্ধ ভোগ দান করিয়া স্বগণকে উদ্ধার করিয়া নিয়া গিয়াছেন, কোন অবতারেই কোন প্রারব্ধের বাধা না জন্মাইয়া মিত্র আবরণে [?] প্রাক্তনকে ক্ষয় করিয়াছেন। 

যুধিষ্ঠিরাদি, রামচন্দ্র, পরশুরাম প্রভৃতি হরিশ্চন্দ্র, শ্রীবৎস, নল প্রভৃতির অবস্থা দেখিয়া সকল কার্য্যই বুঝিতে পারা যায়। তাহারা কেহই প্রারব্ধ ত্যাগ করে নাই। যখন সকল ভার দিয়াছেন তখন আপনার চিন্তা করার কি আছে? ভাবনা নাই, প্রারব্ধ ভোগ এই দেহতেই হইয়া যাইবে। পরের পথের চিন্তা নাই, সেখানে প্রারব্ধের কোন অধিকার নাই জানিবেন।


🔍 🪔 Explanation (ব্যাখ্যা)

🧘‍♂️ ব্যাখ্যা (সহজ ভাষায়):
এই সংসার, এই জীবন — সবই প্রকৃতির নিয়মে চলে। আমরা যা-ই করি, আমাদের মন-বুদ্ধি ও দেহ প্রকৃতির গুণ ও ভাগ্য দ্বারা চালিত হয়। তাই ঠাকুর বলছেন — প্রারব্ধ (পূর্বজন্মের কর্মফল) দুঃখ দিলেও, তাতে দুঃখিত হবার কিছু নেই।
তুমি কর্তা নও — ঈশ্বরই কর্তা। প্রারব্ধ ভোগ না করেই তা কাটবে না।

ভগবানের অবতাররাও যেমন — রামচন্দ্র, যুধিষ্ঠির, হরিশ্চন্দ্র — কেউই নিজেদের প্রারব্ধ থেকে মুক্ত ছিলেন না।
তাঁরা ভোগ করেছেন, শিক্ষা দিয়েছেন। আমাদেরও তাই করতে হবে — যথাযথভাবে নিজের কর্ম সম্পাদন করে যাওয়া, ঈশ্বরে ভরসা রেখে।

🪔 “যখন সমস্ত ভার ঠাকুরকে দিলেন, তখন আর নিজের চিন্তার কি প্রয়োজন?”
এটাই শ্রীশ্রী ঠাকুরের শান্তিপূর্ণ জীবনদর্শন।


🕊️ 🎬 End Script (শেষ কথা)

🙏 "প্রারব্ধের বোঝা নিজের হাতে নয়, ঠাকুরের হাতে দিন। দুঃখে ক্লান্ত না হয়ে, ভাবুন — ঈশ্বর পাশে আছেন, তিনিই পথ দেখাবেন। বেদবাণীর আলোয় জীবন আলোকিত হোক। জয়গুরু।"
📿 “চিন্তা নয়, ভরসা হোক – শ্রীশ্রীঠাকুরের প্রতি।”

🎶 [Ending tune with calm background music and a quote on-screen: “প্রারব্ধ ত্যাগ নয় — ভোগ করলেই মুক্তি”]



🌸 বেদবাণী (৯৮) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর
এই জীবনে যা ঘটে — সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা — সবই পূর্বজন্মের প্রারব্ধ বা কর্মফলেরই ফলাফল।
শ্রীশ্রী ঠাকুর বলছেন:
👉 "প্রারব্ধ ভোগ হইয়াই যায়, বাধা দিলে ক্ষয় হয় না।"
রামচন্দ্র, যুধিষ্ঠির, হরিশ্চন্দ্ররাও নিজেদের প্রারব্ধ ভোগ করেছেন।

💫 সুতরাং, জীবন যাত্রা চলুক বিশ্বাসে, কর্মে ও ঈশ্বরপ্রেমে।
🔔 ভিডিওটি ভালো লাগলে Like, Comment ও Share করুন এবং চ্যানেলটি Subscribe করতে ভুলবেন না।




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড

  বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড, (১)নং পত্রাংশ। শ্রীশ্রী রামঠাকুর।  (১) স্বত:সিদ্ধ কাম পূর্ণ করিয়া সত্যনাথের অধীন হইয়া থাকিতে অভ্যাস করুন।  ন কর্ত্তৃত্বং ন কর্ম্মাণি লোকস্য সৃজতি প্রভু:।  ন কর্ম্ম ফলসংযোগ স্বভাবস্তু প্রবর্ত্ততে। ।  শ্রুতি বাক্য। স্ব স্ব ভাগ্যই ফল জন্মাইয়া থাকেন তাহা ছাড়া অন্য কাহারো ভাগ্য ফল দেবার ক্ষমতা নাই। যাহা হউক, আপনি সত্যের অংশে সকল ভার রাখি[য়া] সঙ্করের ঋণ সকল পরিশোধ করিতে যত্নবানের অভ্যাস করিতে থাকুন, সত্যই সকল ব্যবস্থা করিবেন।  ভাগ্যগতিকেই লোকে দেহ সমাজ স্বজন বন্ধুবান্ধব স্ত্রী পুত্রাদি এবং স্থানাদি লাভ করিয়া থাকে। যখন যাহা লোকের সংঘটন ঘটিয়া থাকে তাহার কর্ত্তা ভাগ্যই জানিবেন। স ভাগ্য ছাড়িয়া পরের ভাগ্যের অধীনে গেলে কালচক্রের অন্তের [?] অধীন হইয়া পড়িতে হয় জানিবেন।  বাড়ীঘর যেখানে হইবার হইবে-তাহা ভাগ্য অর্থাৎ ভগবানই বিধান করেন তাহার চিন্তা বৃথা। (ভাগ্যং ফলতি সর্ব্বত্র)সত্যনারায়ণকে ভুলিবেন না। watch Now বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড, (২) নং পত্রাংশ। শ্রীশ্রী রামঠাকুর।   উৎ (আলোকে) সব (থাকা) দুই সখীগণে উৎসব...

"সর্ব্বতোভাবে সকল অবস্থায়ই সহিষ্ণুতার সঙ্গ করিতে চেষ্টা করিবেন।"

  📿 🌼 বেদবাণী (৯৭) | শ্রীশ্রী রামঠাকুর 🌼 "সর্ব্বতোভাবে সকল অবস্থায়ই সহিষ্ণুতার সঙ্গ করিতে চেষ্টা করিবেন।" সংসারের আবর্ত্তন নৃত্য সচরাচরে ভ্রমণ করিয়া থাকে। ইহাদের তরঙ্গ উল্লাসের বেগ যত সহ্য করিতে পারে, ততই ভগবৎ-শক্তিতে শান্তির শান্তিরথ খুলিয়া পড়ে। 🌊 সহিষ্ণুতা - এই একটি গুণই জীবনের সমস্ত ঝড় সামাল দিতে শেখায়। 🕊️ শান্তির পথ শুরু হয় সহ্য ও সংযম থেকে। 🙏 জয়গুরু | জয় ঠাকুর | জয় ভগবতী শক্তি 📌 Description (পোস্টের নিচে ব্যবহারযোগ্য) যে হৃদয়ে সহিষ্ণুতা, সেখানে ভগবানের শান্তি স্বয়ং এসে প্রবেশ করেন। ঠাকুর বলেছিলেন – সংসারের ঝড়, আনন্দ-বেদনার ঢেউ, সবকিছুই সহ্য করাই ঈশ্বর-প্রাপ্তির প্রথম ধাপ। আজকের দিনটিকে করুন ঠাকুরের ভাবনায় শুরু… 🔖 Hashtags
🌼 বেদবাণী (মূল উদ্ধৃতি) “সত্য = স্থায়ী (অক্ষর), অসত্য = অস্থায়ী (ক্ষর)। উপাধিতে আকৃষ্ট হইয়া লোক সমস্ত প্রকৃতিগত মন হইতে এই দ্বন্দ্ববিভাগের দাস হইয়া জন্ম-মৃত্যু-জরার দ্বারা বন্দী হইয়া পড়ে। যিনি গুণাতীত পরম ব্রহ্ম—যাঁহার জন্ম, মৃত্যু, জরা নাই—তাঁহাকে ভুলিয়া যায়। অতএব সর্বদা সত্যের ব্রত করিবেন। তিনি সর্ব্বকলুষময় ঋণদায় হইতে উদ্ধার করিয়া নিবেন। যাহা হউক, স্ব স্ব অধিকারের দাবী-দাওয়া না করিয়া সর্ব্বতোভাবে কর্ত্তব্য পালনে যত্নশীল হউন।” — শ্রী শ্রী রামঠাকুর বেদবাণী, ২য় খণ্ড (২৬) 🪔 সহজ ব্যাখ্যা (Explanation) 🔹 সত্য ও অসত্য ঠাকুর বলছেন— সত্য চিরস্থায়ী, অক্ষয়। অসত্য ক্ষণস্থায়ী, নশ্বর। 🔹 উপাধির মোহ নাম, পদ, অর্থ, মান-অপমান— এই সব উপাধিতে আসক্ত হয়েই মানুষ মন দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এই দ্বন্দ্বই জন্ম দেয় জন্ম–মৃত্যু–জরার বন্ধন। 🔹 পরম সত্যকে বিস্মরণ এই মোহের কারণেই মানুষ ভুলে যায় সেই গুণাতীত পরম ব্রহ্মকে— যাঁর কোনো জন্ম নেই, মৃত্যু নেই, জরা নেই। 🔹 উদ্ধারের পথ ঠাকুর নির্দেশ দিচ্ছেন— 👉 সর্বদা সত্যের ব্রত গ্রহণ করো 👉 অধিকার দাবি নয়, কর্তব্য পালন করো 👉 ফল বা প্র...